দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এরই মধ্যে রাজশাহী ও টাঙ্গাইলে নতুন করে শিশুমৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যু ঘটে। হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, একই সময়ে নতুন করে ১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ১৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৫২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু এবং তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল-এ গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার ১৩ মাস বয়সী সাফা নামে এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ইয়ামিন নামে আট মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আরও আটজন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের নিয়ে বর্তমানে মোট ২৩ জন শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সাদিকুর রহমান বলেন, “হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছি। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সেবা দেওয়া হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।