ঢাকার কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি) খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জ নয়, সারা দেশে সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার চুনকুটিয়া ঝাউবাড়ি এলাকায় ‘খাল-পুকুর-জলাশয় খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী জানান, খালের দ্বিতীয় ফেজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে। সুয়ারেজ লাইন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “খালের অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, আবার অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে। এসব কারণে ঘরবাড়ি ও মার্কেট গড়ে উঠেছে। পানি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিবেশ, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ ছয় মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন (আজাদ) জানান, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভাঢ্যা ও আটিবাজার খাল খননে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম শাহাবুদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহাদাত হোসেন, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক, মেজর মো. শাকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর কবির, নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।