শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকায় দিনভর উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ৬৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাত ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতির আপডেট দিয়ে বলেন, “আমাদের এখানে ৬৫ জন রোগী এসেছে। তার মধ্যে একজন ভর্তি রয়েছে, কয়েকজন অবজারভেশনে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “মহিউদ্দিন রনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তার পুরো শরীর স্ক্যান করা হয়েছে, গুরুতর কোনো জখম পাওয়া যায়নি। শ্বাসকষ্ট ও শরীরব্যথার অভিযোগ থাকায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
ইনকিলাব মঞ্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি শুরু করে। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়। বিকাল ৪টার দিকে সেখান থেকে যমুনার দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষ বেধে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের ঢামেকে নেওয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের ফেসবুক পেইজে জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। হাসপাতাল জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কাউকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের পর বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ। এতে শাহবাগ ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। রাত ৮টার দিকে পুলিশ আবারও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। তবে কিছু সময় পর তারা পুনরায় জড়ো হয়।
রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
‘জুলাই ঐক্যের’ সংগঠক প্লাবন তারিক অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু বিনা উসকানিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তবে পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিনভর টানটান উত্তেজনার পর শাহবাগ এলাকায় রাতের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।