রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর বেলপুকুর থানার ওসি ও এক এসআইকে অবরুদ্ধ করে কান ধরিয়ে রাখার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মব সন্ত্রাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীতমুখী একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম (২২) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর সুমাইয়া আকতার বৃষ্টি (৩০) ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মারা যান। তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যা থেকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুন ও এসআই সুবাস চন্দ্র বর্মন ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের একটি টিনের ঘরে আটকে রাখে এবং দীর্ঘ সময় কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে।
এ সময় জনতার অভিযোগ ছিল, রাজকীয় পরিবহনের বাসচালককে আটক করে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। তবে পুলিশ জানায়, অভিযোগটি সঠিক নয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি তিন কিলোমিটার দূরের একটি ফিলিং স্টেশনে রেখে চালক পালিয়ে যায়, তখন পুলিশ ঘটনাটির খবরই পায়নি।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশের অতিরিক্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এ সময় কিছু লোক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, একটি গোষ্ঠী ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনতাকে উসকানি দেয় এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসি সোহেল রানা জানান, এই ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে এবং যারা মব তৈরি করে পুলিশকে অবরুদ্ধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।