রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে, আর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের এলাকা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কম।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা আট দিন ধরে এই এলাকাতেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হচ্ছে। আবহাওয়া স্টেশনগুলোর তথ্য বলছে, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার যেখানে শৈত্যপ্রবাহ সীমাবদ্ধ ছিল শুধু পঞ্চগড়ে, সেখানে বৃহস্পতিবার তা আরও কয়েকটি জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ থেকে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৬ থেকে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, শুক্রবার ও শনিবার দেশের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের উত্তরাঞ্চল এবং খুলনা বিভাগের কয়েকটি এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী দুই দিন সারা দেশেই তাপমাত্রা কমতে পারে, তবে এরপর ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মাসের শেষের দিকেও আবার তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
এদিকে, টানা কয়েক দিনের শীতে দেশের উত্তরাঞ্চলে জনজীবন ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের জন্য শৈত্যপ্রবাহ বাড়তি দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।