কুমিল্লা নগরে রাতের আঁধারে শতবর্ষী সাতটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টমছমব্রিজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে সম্প্রতি এসব পুরোনো গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের মূল ফটকের দুই পাশে থাকা দুটি বিশাল রেইনট্রি গাছসহ মোট সাতটি পুরোনো গাছের গুঁড়ি পড়ে রয়েছে। হাউজিং এস্টেট গোলমার্কেট সড়কের মুখে ২০০ বছরের বেশি পুরোনো একটি বটগাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঢুলিপাড়া ও কুমিল্লা কেটিসিসি এলাকার সামনেও আরও কয়েকটি শতবর্ষী গাছ কাটা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে গভীর রাতে গাছগুলো কেটে টুকরা করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে ছায়া প্রদান ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিল।
সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতাধীন হলেও বর্তমানে উন্নয়নকাজ করছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তবে গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে। সওজের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কীভাবে গাছ কাটা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন-উদ্দিন চিশতী দাবি করেন, সিটি করপোরেশন বা তাদের ঠিকাদার কোনো গাছ কাটেনি।
আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে সওজ নিলামের মাধ্যমে সাতটি পুরোনো গাছ কাটার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে দুটি মেহগনি ও পাঁচটি রেইনট্রি ছিল। একটি গাছ আগেই কাটা হয়েছিল, সম্প্রতি বাকি ছয়টি কাটা হয়েছে। তবে ২০০ বছরের পুরোনো বটগাছটি নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, ‘শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা দুঃখজনক। উন্নয়নের আগে বিকল্প সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল।’