রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সব জায়গায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। নেই ফিটনেস, নেই চালকদের লাইসেন্স, তবুও প্রতিদিনই চলছে এসব যান। বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে, অথচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এই যানবাহন।
মানবজমিন জানিয়েছে, গত দেড় দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা গাণিতিকহারে বেড়েছে। সরকার নীতিমালা করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। লাখ লাখ নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে বিকল্প হিসেবে ই-রিকশা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আফতাবনগর ও জিগাতলা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-রিকশা চালু হলেও বাজেট সংকটে প্রকল্প থেমে গেছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নতুন নকশার ই-রিকশা তৈরি শুরু হয়েছে এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০০ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং ১০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সিটি করপোরেশন।
অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্কশপে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে আমদানি করা ব্যাটারি ও মোটরের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তৈরি চাকা, সিট ও বডি জুড়ে এসব যান তৈরি হয়। প্রতিটি অটোরিকশা বানাতে খরচ পড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৭২ হাজার টাকা। কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই এসব যান সড়কে নামছে।
গবেষণা সংস্থা সিপিডি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীতেই প্রায় ২০ লাখ। প্রতিদিন এগুলো ব্যবহার করেন ১১ কোটির বেশি মানুষ। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় ২১ শতাংশের সঙ্গে অটোরিকশা জড়িত। এছাড়া প্রতিদিন এসব যান চার্জ দিতে দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় সড়ক বা মহাসড়কে নিষিদ্ধ করতে হবে। বুয়েটের পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক মনে করেন, ছোট যানবাহন বন্ধ করে বাসভিত্তিক গণপরিবহন জোরদার করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।
সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অটোরিকশার বিশৃঙ্খলা কমিয়ে নিরাপদ বিকল্প ই-রিকশা চালু করা এবং চালকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।