ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে এ সময় পাবনায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকট, দীর্ঘ যানবাহনের সারি এবং গণপরিবহন স্বল্পতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা।
শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। যেসব স্টেশনে সামান্য জ্বালানি অবশিষ্ট আছে, সেখানে শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের রেশনিং চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে ভিড় আরও বেড়েছে।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সড়ক পরিবহনে। দূরপাল্লার বাসসহ অভ্যন্তরীণ রুটে যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঢাকামুখী যাত্রী রুমন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাড়ি না থাকায় বাড়ি থেকে বের হয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিবার রেখে একা ঢাকায় ফেরাটা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।”
রাধানগর এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ফাহিমুল কবির। তিনি বলেন, “একা হলে হয়তো কোনোভাবে যাওয়া যেত, কিন্তু পরিবার নিয়ে এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুবই কষ্টের।”

এ সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌপথেও। কাজিরহাট-আরিচা নৌরুটে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, জ্বালানি না পাওয়ায় তারা গাড়ি বের করতে পারছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে গেছে। স্পিডবোট চালক আব্দুল খালেক বলেন, “যাত্রী থাকলেও তেলের অভাবে বোট চালাতে পারছি না। ঈদের সময় কিছু বাড়তি আয় করার আশা ছিল, সেটাও এবার সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে বেড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান সাধারণ যাত্রী সেজে কাশিনাথপুর মোড়ে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় কয়েকজন অটোরিকশা চালক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এতে একজন চালককে ১ হাজার টাকা এবং অন্য চারজনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন, “ঈদ ফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করতে এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উৎসবের সময়ে জ্বালানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ঢাকামুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।