নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। দুদিন কর্মবিরতি স্থগিত রাখার পর দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর লিখিত বক্তব্যে বলেন, “এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।” পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন অভিযোগ করেন, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে। দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।”

আন্দোলনকারীরা জানান, এতদিন বর্হিনোঙরের কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতায় ছিল না। তবে রোববার থেকে শুরু হওয়া লাগাতার ধর্মঘটে বন্দরের ভেতর-বাহির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে জাহাজে পণ্য ওঠানামা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি প্রথমে ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। ধাপে ধাপে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি ও লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার ফলে গত কয়েকদিন ধরেই বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—এনসিটি, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)—প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এদিকে আন্দোলনের মধ্যে ১৬ কর্মচারীকে অন্য বন্দরে বদলি এবং নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার চিঠি দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯১ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে টানা ধর্মঘটে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস ব্যাহত হলে শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ চেইন ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। রমজানকে সামনে রেখে আমদানি পণ্য আটকে গেলে বাজারেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।
সব মিলিয়ে এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিকদের আন্দোলন এখন জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।