সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্যের দাবার ছক ও বঙ্গীয় তৌহীদি জনতার বিপাক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:২৯
মধ্যপ্রাচ্যের দাবার ছক ও বঙ্গীয় তৌহীদি জনতার বিপাক

বিশ্বরাজনীতি আজ টালমাটাল।  
ইরান-ইজরাইল যুদ্ধ যেন দাবার ছক, যেখানে ঘুঁটি চালিতেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু চাল দিয়া নিজেই হিমশিম খাইতেছে। ইরান একদিকে ইজরাইলকে কাঁপাইতেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উপর হামলা চালাইয়া তাহাদের জান জেরবার করিতেছে। 

এই দৃশ্য দেখিয়া সুন্নি দেশগুলা প্রথমে বোগল বাজাইতেছিল—“ইজরাইল অদ্য কাবু হইয়াছে।” কিন্তু ইরান যখন মিত্রদের উপর হামলা চালাইল, তখন সেই বোগল ভাঙিয়া গেল।

 

বাংলাদেশের তৌহীদি জনতা পড়িল বিপাকে।  
ইসলামি দলগুলা এতদিন মঞ্চে দাঁড়াইয়া বলিতেছিল—“শিয়া মুসলিম নয়, কাদিয়ানিরা ধর্মচ্যুত।” এখন ইরান যখন সৌদি, আমিরাত, কুয়েতের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়াছে, তখন তাহারা কাহাকে সমর্থন করিবে বুঝিতে পারিতেছে না। শিয়াদের জালিম বলিলে মুসলিমত্বে আঘাত লাগে, সৌদিদের বেইমান বলিলে সুন্নি ভ্রাতৃত্বে ফাটল ধরে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলিলে অর্থের উৎস শুকাইয়া যায়। কি মুসিবতে আল্লায় তাহাদের ফালাইয়াছে!

 

তাহারা এখন কিতাব খুলিয়া বসিয়াছে।  তাসফির ঘাটিতেছে, তরজমা করিতেছে, কিন্তু কোনো আয়াতেই লিখা নাই—“ইরানকে সমর্থন করিবে” বা “সৌদিকে সমর্থন করিবে।” ফলে তাহাদের সুর এখন বেসুরা। মঞ্চে দাঁড়াইয়া বক্তৃতা করিলে মাইক্রোফোনও লজ্জায় শব্দ করে না।

 

সুন্নি দেশগুলি এতদিন ইজরাইলের টাকায় লালিত পালিত হইয়া হৃষ্টপুষ্ট হইয়াছিল। এখন ইজরাইলের হামলায় ইরান কাবু হইলে তাহারা আনন্দে নৃত্য করিতেছিল। কিন্তু ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের উপর হামলা চালাইল, তখন সেই নৃত্য থামিয়া গেল। আনন্দের ঢোল এখন শোকের ঢোল হইয়া বাজিতেছে।

 

বাংলাদেশের ইসলামের ঝান্ডাধারীরা, জান্নাতের টিকেটধারীরা এখন দ্বিধায়।  


তাহারা বলিতেছে—“ইরান মুসলিম, কিন্তু শিয়া।”  
আবার বলিতেছে—“সৌদি সুন্নি, কিন্তু বেইমান।”  
আবার বলিতেছে—“যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দাতা, কিন্তু ইসলামের শত্রু।”  

এই তিনটি সমীকরণ মেলাইতে গিয়া তাহাদের মাথা ঘুরিতেছে।  

 

তাহারা এখন মঞ্চে দাঁড়াইয়া বলিতেছে—“আমরা নিরপেক্ষ।” কিন্তু সেই নিরপেক্ষতা হইল সেই ছায়া, যাহা জামাতের রোদে জন্মে, সৌদির টাকায় বেড়ে উঠে, যুক্তরাষ্ট্রের ছায়ায় দাঁড়ায়।  

 

ইরান যখন হামলা চালায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“ইরান জালিম।”  
কিন্তু মুসলিম বলিয়া আবার চুপ করিতেছে।  
 

সৌদি যখন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাতলে দাঁড়ায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“সৌদি বেইমান।”  
কিন্তু সুন্নি বলিয়া আবার চুপ করিতেছে।  
 

যুক্তরাষ্ট্র যখন দাবার ছক সাজায়, তখন তাহারা বলিতেছে—“আমরা নিরপেক্ষ।”  
কিন্তু অর্থের টানে আবার চুপ করিতেছে।  

 

এইরূপে বঙ্গীয় তৌহীদি জনতা এখন বেসুরা।  
তাহাদের বক্তৃতা এখন হাস্যকর, তাহাদের স্লোগান এখন ব্যঙ্গাত্মক, তাহাদের নিরপেক্ষতা এখন ছলনার প্রতীক।  

 

বিশ্বরাজনীতি যখন দাবার ছক, তখন বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলা হইল সেই ঘুঁটি, যাহা চালিত হয় কিন্তু কখনো জয়ী হয় না।  তাহাদের নিরপেক্ষতা হইল সেই মুখোশ, যাহা পরিলে হাসি আসে, কিন্তু খুলিলে কান্না ফোটে।  

 

তাই বলি—  
এই মুসিবত হইতে উত্তরণের একমাত্র উপায় হইল—একখানা বোমা বঙ্গদেশে পড়ুক, মরিয়া ফয়সালা হইয়া যাক।  
কারণ এই ছলনা, এই দ্বিধা, এই নিরপেক্ষতার নাটক আর চলিতে পারে না।

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল, ছলনার জালে বন্দী হয়ে নির্বাক

সব খবর