সর্বশেষ

রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, টেনিসনের ‘দ্য প্রিন্সেস’ এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৪
রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, টেনিসনের ‘দ্য প্রিন্সেস’ এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান

“তৃষ্ণার শান্তি সুন্দরকান্তি,

       তুমি এসো বিরহের সন্তাপভঞ্জন

দোলা দাও বক্ষে, এঁকে দাও চক্ষে

স্বপনের তুলি দিয়ে মাধুরীর অঞ্জন।” 

 

রবীন্দ্রনাথের ‘চিত্রাঙ্গদা’-য় কাহিনীর অন্তিমে যখন যোদ্ধা রাজকুমারী চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা অতনুর কাছ থেকে বিশেষ আশীর্বাদে পাওয়া এক বছরের রূপ-লাবণ্যের সময়পর্ব পার হয়ে আসার সাথে সাথে নিজেও নিজের বৃহত্তর, অতীত অস্তিত্ব ফিরে পেতে চাইছেন এবং অর্জুনও নারীর রূপে মোহাবিষ্ট অবস্থার বদলে মণিপুরের সাধারণ প্রজাদের মুখে এক বছর হয় নিরুদ্দিষ্ট যোদ্ধা রাজকুমারীর কথা শুনে মনে মনে তাঁর খোঁজ করছেন যাকে তিনিই প্রথম প্রত্যাখ্যান করেছিলেন নাটকের শুরুতে, তখন চিত্রাঙ্গদা তাঁর স্বরূপ উদ্ঘাটন করলে অর্জুন ধন্য বোধ করেন এবং তারপর সমবেত নৃত্যে উপরোক্ত গানটি গাওয়া হয়। 

 

‘চিত্রাঙ্গদা’কে ‘নারীবাদী’ গীতি ও নৃত্যনাট্য মনে করা হলেও হুমায়ুন আজাদ কিন্তু তাঁর ‘নারী’ গ্রন্থে নাটকটির সমালোচনা করেছেন। ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত লর্ড টেনিসনের ‘দ্য প্রিন্সেস’ নামে এক দীর্ঘ কবিতার নিখাদ দেশীয় প্রেক্ষিতে খুবই সফল ভাবানুবাদ করতে রবীন্দ্রনাথ সক্ষম হলেও টেনিসন এবং রবীন্দ্রনাথ দু’জনেই কী নারী জীবনে পুরুষের অনিবার্যতাও স্বীকার করিয়ে নিয়েছেন বলেই হুমায়ুন আজাদের অভিযোগ। টেনিসনের দীর্ঘ কবিতায় এক যোদ্ধা প্রকৃতির রাজকুমারী জীবনেও কোন পুরুষের পাণিগ্রহণ করবেন না মর্মে শপথ করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যেখানে পুরুষদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। তবে, শৈশবেই যে রাজকুমারের বাকদত্তা এই রাজকুমারী হয়েছিলেন, তিনি তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে মেয়েদের বেশে নারী শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তবে একটা সময় ছদ্মবেশ ধরা পড়লে রাজকুমার তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে পালায়। তবে একটা সময় রাজকুমারীর সহানুভূতি হয় রাজকুমারের জন্য এবং তিনি বিয়েতে সম্মত হন। যদিও এ কাহিনীর সাথে রবীন্দ্রনাথের প্রহসনমূলক ‘চিরকুমার সভা’-রই মিল বেশি, তবু ‘দ্য প্রিন্সেস’ এবং ‘চিত্রাঙ্গদা’র মর্মবানী কোথাও এক। আজাদের মতে ‘স্ব-শাসিত রাজকন্যার পুরুষের অধীনতা মেনে নেওয়া।’ হ্যাঁ, ছেলে না হওয়ায় মণিপুরের রাজা তাঁর কন্যাকে ছেলেদের মত অস্ত্র শিক্ষায় বড় করলেও একটা সময় নারী প্রকৃতি চিত্রাঙ্গদাকে আচ্ছন্ন ত’ করেই। 

ক্রুদ্ধ পাঠকেরা এতক্ষণে যদি এই নিবন্ধকারের প্রতি বিরক্ত হতে শুরু করেন যে কেন এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের মেয়েদের বিভিন্ন খাতে অর্জন ও অগ্রগতির বদলে আমি সাহিত্যের আলাপ নিয়ে পড়েছি, তবে বলতেই হবে: ‘ধীরে রজনী, ধীরে!’ 

 

 

আজকের পৃথিবীতে নারীবাদ বলুন বা সামগ্রিক ভাবে মেয়েদের বিষয়ে যে কোন জরুরি আলাপ কিন্তু এখনো টেনিসন-রবীন্দ্রনাথদের ‘দ্য প্রিন্সেস-চিত্রাঙ্গদা’র আলেখ্য ঘিরেই আবর্তিত। কীভাবে? যেমন, নারীবাদের এ্যাংলো-স্যাক্সন স্কুলে যদিবা নারীর প্রতি সামাজিক শোষণ প্রধান আলোচ্য এবং নারীর সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনই যদি মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে, ফ্রেঞ্চ স্কুল অফ ফেমিনিজম বা নিউ ফ্রেঞ্চ ফেমিনিজমে নারীর যৌন অবদমন মূল আলোচ্য এবং নারীর যৌনমুক্তি অর্জন এ স্কুলের মূল লক্ষ্য। 

 

‘কন্যাগুলিকে শিক্ষিত করিয়া ছাড়িয়া দাও। নিজেদের অন্ন-বস্ত্র নিজেরাই অর্জন করিয়া লউক’- বেগম রোকেয়ার এই অমৃত বাক্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী হিসেবে যেদিন খুব গর্বিতভাবে হাত-পা নেড়ে ক্লাসরুমের সামনে আমি উচ্চারণ করছি, আমারই এক সহপাঠিনী খুব বাস্তববাদীর মত বলে বসলো যে ‘কিন্তু বিয়েও ত’ করতে হবে। মানুষের ত’ অন্য প্রয়োজনও থাকে। শুধু ভাত-কাপড় জোটাতে পারলেই কী হয়?’ ভাষাকে এখানে যথাসম্ভব সেন্সর করে লিখলাম। সেই সহপাঠীনী এখন দু’সন্তানের মা ও এই নিবন্ধকার ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ’ তাড়িয়েই যাচ্ছে! এখানেই এই দ্বন্দটি কিন্তু এসেই যায়। সেই বৌদ্ধ যুগে ভারতে যে ভিক্ষুনীরা প্রথম সঙ্ঘে যোগ দান করে রান্নাঘর ও গার্হস্থ্য শৃঙ্খল থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন, মুক্তি চেয়েছিলেন মধ্যযুগের ক্যাথলিক নানরাও- কিন্তু বারবারই সেসব দ্রোহের পরিসরেও ঢুকে পড়েছে প্রকৃতির অমোঘ পরিহাস! একশোভাগ প্রাকৃতিক বাসনার উর্দ্ধে থাকতে পেরেছে কি এই যাবতীয় সঙ্ঘ বা মনাস্ট্রি? অনেকেই পেরেছেন আবার বিচ্যূতিও ত’ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ঘটেছে। সেক্ষেত্রে বিয়েই মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানেও গার্হস্থ্য শ্রম, বৈবাহিক সঙ্গী ও সঙ্গীর পরিবারের মনো-দৈহিক-পুষ্টিগত-শ্রমগত নানা স্তরের নির্যাতন।

 

বিয়ের বাইরে একজন আপাদমস্তক কর্মজীবী নারীই বা আজকের কর্পোরেট জব সেক্টরের নিজের আত্ম-মর্যাদা টিঁকিয়ে রেখে কতটা পেশাগত সাফল্য অর্জন করতে পারেন, বিয়ে হলে আবার মাতৃত্ব ছুটি থেকে শুরু করে সন্তানের দেখা-শোনায় প্রাথমিক ভাবে অন্ততঃ কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেসব প্রশ্ন ত’ থাকেই। তারপর আছে ঘরে-বাইরে-রাস্তায় নারী ত’ বটেই, কন্যা শিশুদের প্রতিও নানামাত্রিক সহিংসতা ও ধর্ষণ, উত্তরাধিকার আইনে বাংলাদেশের মত দেশে প্রধান দুই জন-সম্প্রদায়েই কিছু না কিছু বৈষম্য, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের উত্তরাধিকার সহ অসংখ্য বিষয়ে নারীর বৈষম্য আর কিছুতেই ঘোচে না! তবে কী র‌্যাডিক্যাল শুলামিথ ফায়ারস্টোনের মত নারীর জন্য গর্ভধারণহীনতাই সমাধান? তিনি ত’ স্বপ্ন দেখতেন যে একসময় বিজ্ঞান নারীকে গর্ভধারণ থেকে মুক্তি দেবে যার আংশিক বাস্তবায়ন হালের ‘আইভিএফ প্রযুক্তি’-র মাধ্যমে কিছুটা হলেও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নারীর পূর্ণ মুক্তি কীভাবে আসবে, সে কী পুরুষহীন ‘চিত্রাঙ্গদা/দ্য প্রিন্সেস’ অথবা কোন অর্জুন/প্রিন্সের সাথে মিলিত জীবনের মাধ্যমে জীবনের সব অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করবে, সেসব বিতর্কে যাবার আগে আসুন দেখি এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মেয়েরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে! 

 

ইরা থেকে ইরান: সীতাকুন্ডের ধর্ষিতা শিশু থেকে মাহসা আমিনী! 

 

এবারের নারী দিবস এক অদ্ভুত সময়ে পালিত হচ্ছে। তিন বছর আগে মাথার দু/তিনটি চুল বাতাসে হিজাব খুলে দৃশ্যমান হওয়ার দোষে ইরানে রাষ্ট্রীয় পুলিশের হাতে নিহত মাহসা আমিনীকে ঘিরে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার তিন বছর পরে ইরানে গেলো শীতে আর এক বড় আন্দোলন এবং সেই আন্দোলন দমনে ইরানের বিদ্যমান সরকারের কঠোর পন্থার নানা প্রতিক্রিয়ায় এবং একইসাথে ভূ-রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশের ফেরে গোটা পৃথিবী আবার জড়িয়ে পড়েছে এক যুদ্ধে। ইরানের বিদ্যমান সরকারের পক্ষে রাশিয়া, তুরষ্ক এবং প্রতিবাদকামী জনতার পক্ষে আমেরিকা-ইজরায়েল-আরব রাষ্ট্রগুলোর অবস্থানের আঘাত আছড়ে পড়ছে বাংলাদেশের বাড়তে থাকা তেলের দামেও। তাহলেই বুঝুন- ‘রামায়ণ’ বা ‘ট্রোজান ওয়্যারে’র সময় থেকে আজো নারীর প্রতি প্রচন্ড কোন নিষ্ঠুরতা (অপহরণ-ধর্ষণ-হত্যা) কী শেষমেশ যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়?

 

 

বাংলাদেশে আবার নারী দিবসের আগে আগেই চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জেলখানা থেকে ছাড়া পাওয়া এক আসামীর হাতে প্রতিবেশী দম্পতির সরল বিশ্বাসে তাদের শিশু কন্যা ইরাকে বেড়াতে নিয়ে যাবার অনুমতি দেবার পর, বয়ষ্ক লোকটি বাচ্চাটিকে ইকো পার্কে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে, জবাই বা হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার গলা কেটে ফেলার পরও অর্দ্ধ-কর্তিত গলা নিয়ে শিশুটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামতে থাকলেও এবং দুই নির্মাণশ্রমিক তাকে দেখে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেও, দু’টো সার্জারির পর শিশুটি মারা গেছে। এই ইরাই যেন ইরান, ইরানই ইরা। কখনো সে আট বছরের ধর্ষিতা শিশু, কখনো সে চুল দেখার অপরাধে নিহত বাইশের মেয়ে। কখনো সে গ্রিক সৈন্যের হাতে ধর্ষিতা ট্রোজান রাজকন্যা ক্যাসান্দ্রা, কখনো সে সীতা। 

 

‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে’র নারী ও কন্যা নির্যাতন বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা এবং ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়ন, ২ জন উত্ত্যক্তকরণ এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ২৮১টি। আগের মাস গত বছরের ডিসেম্বরে মামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪৮টি। (সূত্র: ৮ই মার্চ, বাংলা ট্রিবিউন)

 

শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ

 

বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিকস বা বিবিএস-এর ‘শ্রমশক্তি সমীক্ষা ২০২৪’- এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের শ্রমশক্তির আয়তন ২০২৪ থেকে ২০২৫ নাগাদ ১৭ লাখ কমে গেছে এবং এই হ্রাসের বড় আঘাতটা পড়েছে নারী শ্রমশক্তির উপর। এই প্রতিবেদনে দেখা যায় যে ২০২৪ সালে যেখানে দেশের মোট শ্রমশক্তির আয়তন বা সংখ্যা ছিল ৭.১৭ কোটি, গত বছর সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৩৪ কোটি। পুরুষের অংশগ্রহণের হার ৪.৮ কোটিতে অপরিবর্তিত থাকলেও (২০২৩-এ ছিল ৮.৮১ কোটি), নারীর অংশগ্রহণের সংখ্যা ২.৫৩ কোটি থেকে কমে হয়েছে ২.৩৭ কোটি। (সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার)

 

 

 

জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব (১৯৭৩-২০২৬): শেষ নির্বাচনের পর বাড়লো কি কমলো? 

 

এদিকে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পরপরই ‘বিডি ভয়েস (ইংরেজি)’-র ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লষণে দেখা যায়, ১৯৭৩-১৯৭৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিরাই ছিলেন সংসদের নারী প্রতিনিধিত্ব। ১৯৭৯-১৯৮২ মেয়াদে দ্বিতীয় সংসদে ২ জন নির্বাচিত ও ৩০টি নারী আসন মিলিয়ে মোট ৩২ জন নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না। ৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯৫ মেয়াদে পঞ্চম সংসদে ৫ জন নির্বাচিতসহ ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সংসদ নির্বাচনে ৩ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হয়ে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত হন ৮ নারী। মোট নারী প্রতিনিধি ছিলেন ৩৮ জন। অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে ৭টি আসনে সরাসরি ও ৪৫টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৫২ জন নারী সংসদ সদস্য হন। নবম জাতীয় সংসদে ২১ জন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। এরপর সংরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়। ওই সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্য হন ৭০ জন। আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যথাক্রমে ১৮, ২৩ ও ১৯ জন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

২০২৬ এ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৭ জন নারী প্রার্থী ।

 

ব্যাঙ্কিং খাতে নারী প্রতিনিধিত্ব

 

এদিকে ৫ই মার্চ ২০২৬, ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে ডিসেম্বর ২০২৪-এ ব্যাঙ্কিং খাতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মীর হার ৩৭.৬৪৯ থেকে কমে হয়েছে ৩৫. ৭৮২ বা নারীর অংশগ্রহণের হার কমেছে ৪.৯৪ শতাংশ। মাত্র ১০.২৫% শতাংশ নারী ব্যাঙ্কার কর্মক্ষেত্রে উচ্চ পদে আসীন। 

 

 

কেমন আছেন অভিবাসী নারী শ্রমিকেরা? 

 

দৈনিক সমকাল পত্রিকায় আজকের প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী গত সাত বছরে নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি নারী বিদেশে কাজ করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন ফিরেছেন, এর সঠিক তথ্য নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন। তাদের বেশির ভাগই নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া অন্তত ৮০০ নারীর লাশ দেশে এসেছে। এর বাইরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি নারী পাচারের শিকার হয়েছেন।

 

এমন পরিস্থিতিতে আজ ৮ মার্চ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক’।

 

গত দেড় বছরের মত এক দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে চলেছে যার নানা অভিঘাতও আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক জীবনের স্তরে স্তরে দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের মেয়েরা এই প্রদোষকাল কীভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে সেটাই দেখবার।

সব খবর