বিএনপি ভাবিয়াছিল ক্ষমতা মানেই হরলিক্স, শান্তি, আর গদি ধুইয়া মুছিয়া বসিবার আয়োজন। লন্ডনের চা-কফি খাইতে খাইতে নেতা বলিয়াছিলেন, “দেশে ফিরিব, গদি লইব, আওমিলিগ নাই, বিরোধী নাই, শান্তির বাপকে হালকা কিছু দিয়া থুইয়া শান্তিতে থাকিব।” কিন্তু গদিতে বসিবার পর হইতে শান্তির দেখা আর মিলিতেছে না।
ট্রাম্পে আর সময় পাইতেছে না ইরানে হামলার, ইরানও সময় পাইতেছে না হরমুজ না তরমুজ বন্ধ করিবার।
মিডলিস্টে লাগিয়াছে গ্যাঞ্জাম। দেশে তেল বন্ধ, বিদ্যুত বন্ধ, শ্রম বাজার বন্ধ, কর্মসংস্থান বন্ধ। জমাতের বেইমানি চলিতেছে, হালারা বট দিয়া ভিড্যু বানায়, আর মাথা গরম করিয়া দেয়। বিএনপি ভাবিয়াছিল জমাত হইবে চালিকা শক্তি, এখন দেখিতেছে, হইয়াছে চালাক শক্তি।
বাজারে নিয়ন্ত্রণ নাই, গাড়ির ব্রেকে নিয়ন্ত্রণ নাই। খালি এক্সিডেন্ট, খালি চোরা কারবারি। দেশ চালাইতে এত হ্যাপা, এত ক্যাচাল বিএনপি এখন বলিতেছে, “ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি।”
গদির স্বপ্নে যাহারা লন্ডনে বসিয়া হরলিক্স খাইতেছিল, তাহারা এখন হরলিক্সের বদলে খাইতেছে গালি। ভাবিয়াছিলো জনতা খাম্বার কথা ভুলিয়া গিয়াছে, সুদিরে নিয়াই পড়িয়া আছে। বাস্তবিক ভাবিতেছে, উনুসরে দিয়া যদি আর কিছুদিন চালাইতে পারিত, তাহা হইলে আম পাবলিকের গালি গালাজ খাইতে হইত না।
ক্ষমতা মানেই ক্যাচাল, গদি মানেই গ্যাঞ্জাম। যে নেতা বলিয়াছিলেন—“দেশ চালাইব শান্তিতে,” তিনি এখন চালাইতেছেন অশান্তিতে। যে দল বলিয়াছিল, “আমরা আনিব পরিবর্তন,” তাহারা আনিয়াছে পেটের ব্যথা।
গদির নিচে এখন আগুন, উপরে বসিয়া আছে বিএনপি। পাশে বসিয়া আছে জমাত, হাতে বট, মুখে ভিড্যু।
বাজারে পেঁয়াজ আছে, পকেটে টাকা নাই, বিদ্যুতে আলো নাই, জনতার মুখে হাসি নাই।
আছে কেবল গদি, আর তাহার নিচে চাপা পড়া বিএনপি। এইরূপে বিএনপি ক্ষমতা লইয়া পড়িয়াছে বেকায়দায়।
গদি ধুইয়া মুছিয়া বসিবার স্বপ্ন এখন হইয়াছে গদি ধুইয়া কান্দিবার বাস্তবতা। বিএনপি এখন বলিতেছে, “ক্ষমতা চাই না, শান্তি চাই।” কিন্তু শান্তি তাহাদের পাইবে না, কারণ শান্তির বাপও এখন বেকায়দায়।
লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল - রঙ্গে ভরা বঙ্গে, আছে কপালের সঙ্গে