সর্বশেষ

মেনুফেস্টোর মহা ফাঁপড় ও রুহানি নির্বাচন

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৭
মেনুফেস্টোর মহা ফাঁপড় ও রুহানি নির্বাচন

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। কিন্তু তাহার চেয়েও আসন্ন হইয়াছে রাজনৈতিক দলগুলোর মহা ফাঁপড়—মেনুফেস্টো প্রণয়ন। একেক দল একেক রকম ফাঁপড়ে, যেন পিঠা উৎসবে ডিমের পিঠা ছুঁড়িয়া প্রার্থী বরণ করিবার পর, এখন ডিমের খোসা লইয়া নীতিমালা বানাইতে হইতেছে।

 

বিএনপি ও জামায়াতের মেনুফেস্টো রচনা কমিটি বসিয়াছে। তাহারা যেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি লিখিতে যায়, সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞ মহল বলিয়া উঠে, “এই তো ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে নেওয়া কর্মসূচি!” রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, ভাতা—সবই তাহার দখলে। এমনকি নদী নালাও বাদ নাই। এক নেতা বলিলেন, “আমরা যদি বলি নদী খনন করিব, তাহা হইলেও হাসিনার খনন যন্ত্র আগে চলিয়া গিয়াছে।”

 

ভাতা দিতে গিয়া ভীষণ ফ্যাসাদ। হতদরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, জেলে, বেদে, চা শ্রমিক কারো কাছেই ভাতা পৌঁছাইবার বাকি নাই।  ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাহা আগেই পৌঁছাইয়া দিয়াছেন। এখন বিএনপি বলিতেছে, “আমরা ভাতা দিব না, আমরা ভাতার দিবো, অন্য নামে ছাতা মাথা দিবো।” ফলতঃ ভিজিএফ কার্ড হইবে “ফ্যামিলি কার্ড”, তাহার উপর নতুন নাম ফলক বসাইয়া ছবি তোলা যাইবে।

 

বিদেশ ফেরত বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, “আমরা উন্নত বিশ্বের উদাহরণ আনিব।” দেশীয়রা বলিতেছেন, “ওসব তো আগেই হইয়া গিয়াছে।” এক বিশেষজ্ঞ বলিলেন, “তাহলে আমরা মেট্রোরেল ভাঙিয়া মনোরেল করিব।” তাহাতে নতুন প্রকল্প, নতুন ফলক, নতুন ফিতা কাটার সুযোগ। জনগণ বলিতেছে, “আপনারা উন্নয়ন না, ফলক প্রতিস্থাপন করিতেছেন।”

 

এদিকে জামায়াতের বিশেষজ্ঞমহল বলিতেছে, “আমরা অত শত আবিষ্কারের দরকার নাই। জনগণ যাহা চায় তাহাই করিব।” তাহারা বলিতেছেন, “ক্ষমতায় একবার যাইতে পারিলে বাকিটা রুহানি প্রকল্পে প্রতিস্থাপন করা যাইবে।” অর্থাৎ, উন্নয়ন না, ওয়াজ হইবে। দেশী-বিদেশী ওয়ায়েজ আনিয়া মাহফিলে ঘোষণা দিবে, “আপনারা জান্নাতেই আছেন।” জনগণ বুঝিবে, “আমরা জান্নাতেই আছি, অধিক উন্নয়নের দরকার নাই।”

 

এক নেতা বলিলেন, “আমরা রাস্তা করিব না, আমরা রুহানি রেলপথ করিব।” তাহার ব্যাখ্যা, “এই রেলপথে যাত্রা করিলে সরাসরি জান্নাতের গেইটে পৌঁছানো যাইবে।” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে টিকিট কোথায়?” নেতা বলিতেছেন, “টিকিট হইল নির্বাচন - ভোট হইলো রশিদ।”

 

এইরূপে মেনুফেস্টো রচনার কাজ চলিতেছে। একেকটি প্রতিশ্রুতি যেন একেকটি ব্যঙ্গচিত্র। কেউ বলিতেছে, “আমরা উন্নয়ন করিব না, আমরা উন্নয়নের স্মৃতি সংরক্ষণ করিব।” কেউ বলিতেছে, “আমরা জনগণের ইচ্ছা অনুসারে কাজ করিব, কিন্তু জনগণ কী চায় তাহা আমরা ঠিক করিব।”

 

এদিকে সময় ঘনাইয়া আসিতেছে। নির্বাচন আসিতেছে, কিন্তু মেনুফেস্টো আসিতেছে না। এক নেতা বলিলেন, “আমরা মেনুফেস্টো না, মেনু করিব। তাহাতে জনগণ খাইবে, ভাবিবে উন্নয়ন হইতেছে।” অন্য নেতা বলিলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি না, প্রতিভা দেখাইব। তাহাতে জনগণ মুগ্ধ হইবে।”

 

এইরূপে চলিতেছে মেনুফেস্টোর মহা ফাঁপড়। জনগণ বলিতেছে, “আমরা উন্নয়ন চাই না, আমরা সত্য চাই।” নেতারা বলিতেছেন, “সত্য হইল আপনারা জান্নাতেই আছেন।” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে ভোটের দরকার কী?” নেতারা বলিতেছেন, “ভোট হইল জান্নাতের টিকিট।”

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল, যাহার শীষ ভাঙ্গিয়াছে, লেখা যাইতেছেনা।

সব খবর