গত বছর জুড়েই দাপুটে উপস্থিতি ছিল জয়া আহসানের। নতুন বছরেও সেই ধারাবাহিকতা যে বজায় থাকবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর অভিনীত কলকাতার নতুন সিনেমা ‘ওসিডি’–এর ট্রেলারে। মাত্র ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের এই ট্রেলারেই দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সিনেমাটি। যা আসলে সিনেমার মূল শক্তিরই ইঙ্গিত।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেলারটি শেয়ার করে জয়া আহসান লিখেছেন, “পরিচ্ছন্নতার নেশা যখন হয়ে ওঠে নিখুঁত প্রতিশোধের ব্লুপ্রিন্ট।” এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে ছবির কেন্দ্রীয় ভাবনা-মানসিক ব্যাধি কীভাবে নীরবে প্রতিশোধের নকশা তৈরি করতে পারে।
‘ওসিডি’ বা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার–কে সাধারণত অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেখিয়েছেন, এই মানসিক সমস্যার শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত শৈশবের ভয়াবহ ট্রমা, দমন করা স্মৃতি ও অব্যক্ত ক্ষোভের ভেতরে।

ট্রেলার স্পষ্ট করে দেয়, শৈশবের কোনো দুঃসহ অভিজ্ঞতা লিঙ্গনির্বিশেষে একজন মানুষের মনোজগতে আজীবনের ক্ষত তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষতই একসময় রূপ নিতে পারে অপরাধপ্রবণ মানসিকতায়।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র শ্বেতা, পেশায় একজন চিকিৎসক। বাহ্যিকভাবে তিনি পরিমিত, পরিপাটি ও সংযত; কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্ধকার অতীত। শৈশবের সেই ধূসর স্মৃতি তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফেরে। কিন্তু গল্পে ভয়াবহ মোড় আসে তখনই, যখন তাঁর এক রোগী আচমকাই শ্বেতার গোপন অতীত সম্পর্কে জেনে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় অপরাধের পথচলা।
শ্বেতা ওই রোগীকে হত্যা করে—আর ধীরে ধীরে তাঁর মধ্যে জন্ম নেয় এমন এক মানসিকতা, যেখানে বিরুদ্ধাচরণ মানেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চারপাশের মানুষদের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা, সহনশীলতার সম্পূর্ণ অভাব সব মিলিয়ে শ্বেতা হয়ে ওঠে নিজের ট্রমারই নির্মম ফলাফল।
পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের ভাষায়, ‘ওসিডি’ মূলত একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, এবং একই সঙ্গে এক ধরনের প্রতিবাদের ভাষা। শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব নিয়ে ছবিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে- আমরা কি আদৌ বুঝতে পারি, একটি শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নীরব সহিংসতা ভবিষ্যতে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে?

‘ওসিডি’র শুটিং শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। এরপর এটি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ ‘ভূতু’ খ্যাত আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়ের। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘ওসিডি’। এটি কেবল একটি গা ছমছমে থ্রিলার নয় বরং এক আয়না যেখানে সমাজের অবহেলা, শিশু নির্যাতনের নীরবতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের উদাসীনতা একসঙ্গে ধরা পড়ে।
শ্বেতার শেষ পরিণতি কী তার উত্তর মিলবে সিনেমা হলে। তবে কিছু প্রশ্ন থেকে যাবে আমাদের কাছেই।