বছরের শেষটা আসে এক অদ্ভুত নরম আলো নিয়ে। ডিসেম্বরের ঠান্ডা হাওয়া, জানালার পাশে জমে থাকা নীরবতা, চায়ের কাপে ধোঁয়া—এই সময়টায় মানুষ একটু থামে। ঠিক এই থেমে যাওয়ার মুহূর্তেই বড়দিনের সিনেমাগুলো আমাদের পাশে এসে বসে। এগুলো শুধু উৎসবের গল্প নয়, অনেক সময় জীবনের ভারী অনুভূতিগুলোও হালকা করে দেয়।
এই বড়দিনে যদি ঘরে বসে কিছু ভালো সিনেমা দেখতে চান, তাহলে এই দশটি সিনেমা আপনার সময়টাকে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে।
১. ইটস অ্যা ওয়ান্ডারফুল লাইফ (১৯৪৬)
জর্জ বেইলি নামের সাধারণ এক মানুষ দেবদূতের সহায়তায় বুঝতে পারে, তার জীবন কত মানুষের জন্য আলো হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট প্রভাবও জীবনের বড় মূল্য বহন করে—এই বার্তাই দেয় সিনেমাটি।
২. মিরাকল অন থার্টি ফোর্থ স্ট্রিট (১৯৪৭/১৯৯৪)
এক বৃদ্ধ নিজেকে সান্তা দাবি করেন। আদালত, বিশ্বাস আর অলৌকিকতার প্রশ্নে এগোয় গল্প। শিশুদের জন্য যেমন, বড়দের জন্যও তেমনি প্রাসঙ্গিক।
৩. দ্য হোল্ডওভারস (২০২৩)
বড়দিনে স্কুলে থেকে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র ও একাকী শিক্ষক ধীরে ধীরে নিজেদের গল্প ভাগ করে নেয়। নিঃশব্দে মানুষের পাশে থাকার গল্প।
৪. দ্য নাইটমেয়ার বিফোর ক্রিসমাস (১৯৯৩)
হ্যালোউইন টাউনের রাজা জ্যাক স্কেলিংটন ক্রিসমাসকে নিজের মতো করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। আনন্দকে তার মতোই থাকতে দেওয়ার শিক্ষা দেয় সিনেমাটি।
৫. অ্যা ক্রিসমাস স্টোরি (১৯৮৩)
শিশু রালফির স্বপ্ন একটি বিবিগান। বড়দিনের নস্টালজিয়া, পারিবারিক হাসি-ঝগড়া আর শৈশবের আবহ ফুটে ওঠে এতে।
৬. ক্লজ (২০১৯)
অলস জেসপার ও নিঃসঙ্গ ক্লজের ছোট ছোট কাজ বদলে দেয় পুরো শহর। ভালোবাসা কোনো জাদু নয়, বরং ধারাবাহিক ভালো কাজের ফল।
৭. হোম অ্যালোন (১৯৯০)
আট বছরের কেভিন একা বাড়িতে থেকে চোরদের সঙ্গে লড়াই করে। হাস্যরসের আড়ালে আছে সাহস, ভয় আর পরিবারকে নতুন করে মূল্যায়নের গল্প।
৮. লাভ অ্যাকচুয়ালি (২০০৩)
বড়দিনকে ব্যাকড্রপ বানিয়ে নানা সম্পর্কের গল্প। সব সুখের নয়, সব নিখুঁতও নয়—কিন্তু সবই মানবিক। ভালোবাসার বিশৃঙ্খল শক্তিকে তুলে ধরে।
৯. ব্ল্যাক ক্রিসমাস (১৯৭৪)
একটি কলেজ হাউসে ছুটির সময় ঘটে ভয়ংকর ঘটনা। বড়দিনের উল্টো ছবি—আলো আছে, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। যারা মিষ্টি গল্পের বাইরে কিছু চান, তাদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা।
১০. এলফ (২০০৩)
মানুষ বাডি বিশ্বাস করে সবাই ভালো। তার শিশুসুলভ আচরণ আশপাশের মানুষকে বদলে দেয়। বড়দের আবার শিশু হতে শেখায় সিনেমাটি।
এই দশটি সিনেমা বড়দিনের আবহকে আরও উষ্ণ করে তুলবে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি জীবনের নানা শিক্ষা ও অনুভূতিও ছুঁয়ে যাবে দর্শকের হৃদয়।