ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে নতুন সংকটে ফেলেছে। ভারতের পণ্যের ওপর মার্কিন বাজারে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক এখনো ২০ শতাংশে রয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে মূল্যগত ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই শুল্কবৈষম্য অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। বেসিক টি-শার্ট, নিটওয়্যার ও ক্যাজুয়াল পোশাকের অর্ডার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত তিন মাস ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমছে, অথচ প্রতিযোগী দেশগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য সুবিধায় এগিয়ে যাচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেছেন, ২০২৬ সালের পর যদি ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা না থাকে, তবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধান, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বাণিজ্য কৌশল জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করে রপ্তানিকারকদের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করলে দেশের অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, মাত্র ১-২ শতাংশ শুল্ক পার্থক্যও অর্ডার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। ভারতের শুল্ক কমায় তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য দিতে পারছে। কাঁচামাল সুবিধা পাচ্ছে এবং দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের পোশাক অর্ডার ঝুঁকিতে পড়ছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারত ৯টি বড় বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা দেশটির রপ্তানি খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিপরীতে বাংলাদেশের কার্যকর চুক্তি মাত্র একটি—ভুটানের সঙ্গে। জাপানের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভারতের সাফল্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, পূর্ণাঙ্গ টেক্সটাইল ইকোসিস্টেম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদের ফল। বাংলাদেশের উচিত আক্ষেপে না থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে ইহসান শামীম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক ১৮ শতাংশ হওয়ায় বাংলাদেশ নতুনভাবে প্রতিযোগিতার সংকটে পড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ক্ষমতা হারাচ্ছেন এবং ক্রেতারা কম দামে পণ্য নেওয়ার চাপ সৃষ্টি করছেন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো এবং নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।