সর্বশেষ

মশায় বেদিশা নগরবাসী

দায়িত্বহীনতায় বেড়েছে মশার দৌরাত্ম্য, নাগরিকদের ক্ষোভ

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩৩
দায়িত্বহীনতায় বেড়েছে মশার দৌরাত্ম্য, নাগরিকদের ক্ষোভ

রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব নাগরিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সন্ধ্যা নামলেই মশার ঝাঁক আক্রমণ করছে মানুষকে। দোকানপাট, বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট—সব জায়গায় মশার যন্ত্রণা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

 

রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার চা বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সারাদিন কয়েল জ্বালিয়েও মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। শুধু তেজকুনিপাড়া নয়, পুরো শহরেই একই অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে এক আইনজীবী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন ও জলাধারে পানি জমে পচে গেছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মনে করেন, সিটি করপোরেশন সঠিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।

 

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী দাবি করেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার মশার উপদ্রব কম। তিনি বলেন, ডিএনসিসি সারাবছরই মশক নিধন কার্যক্রম চালায়।

 

বাসিন্দারা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন। রোকেয়া সরণির পীরেরবাগের আশরাফ হোসেন বলেন, এত মশা জীবনে দেখেননি। মশা তাড়ানোর বৈদ্যুতিক যন্ত্রও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। বংশালের বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ অভিযোগ করেন, ফগারম্যানরা মাঝে মাঝে এসে স্প্রে করেই চলে যায়, নিয়মিত কার্যক্রম নেই।

 

অতীতে কাউন্সিলররা মশক নিধন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতেন। তারা এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে ওষুধ ছিটাতেন, জনসচেতনতা বাড়াতেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতেন। অভ্যুত্থানের পর মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত হওয়ায় এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসকরা দায়িত্ব নিলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ফলে জলাশয় পরিষ্কার, ড্রেন মেরামত, বর্জ্য অপসারণের মতো কাজ হয়নি।

 

ডিএনসিসির আওতাধীন কিছু এলাকায় তারা মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে পারে না। মিরপুর, মহাখালী, বনানী, বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের অধীন জলাশয়গুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকা থেকে মশা ছড়িয়ে পড়ছে অন্যত্রও।

 

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, বসুন্ধরায় তাদের কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। সিভিল অ্যাভিয়েশনের জলাশয়েও মশার প্রকোপ বেশি। সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশে ওষুধ ছিটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

 

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান বলেন, ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই। ক্রাশ প্রোগ্রাম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই মশার উপদ্রব কমে আসবে।

সব খবর

আরও পড়ুন

শয্যা তিন গুণ বাড়িয়েও চাপ সামলাতে পারছে না শিশু হাসপাতাল

বাড়ছে হামের সংক্রমণ শয্যা তিন গুণ বাড়িয়েও চাপ সামলাতে পারছে না শিশু হাসপাতাল

দেশের অন্তত ১০ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক মাত্রায়

বাড়ছে মৃত্যু, চাপে স্বাস্থ্যব্যবস্থা দেশের অন্তত ১০ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক মাত্রায়

ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে গ্রাহক

কুড়িগ্রামে তেলের তীব্র সংকট ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে গ্রাহক

ডিজেল সংকটে পদ্মায় মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা

শরীয়তপুরে বাড়ছে দুর্ভোগ ডিজেল সংকটে পদ্মায় মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা

নাফ নদীর মোহনা থেকে ১৩ জেলেকে ধরে নিল আরাকান আর্মি

টেকনাফে আতঙ্ক নাফ নদীর মোহনা থেকে ১৩ জেলেকে ধরে নিল আরাকান আর্মি

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চরম ভোগান্তি

পাবনায় তীব্র জ্বালানি সংকট ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চরম ভোগান্তি

ঈদে ফিরতি পথেও লঞ্চের ভাড়া বাড়তি

কেবিনে কালোবাজারি সিন্ডিকেট ঈদে ফিরতি পথেও লঞ্চের ভাড়া বাড়তি

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল